ঢাকা ডায়েরি ইসলামী ডেস্ক:
বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের জনপ্রিয় খেলার নাম ফুটবল। এই খেলাকে কেন্দ্র করে সমাজে নানা ধরণের ফতোয়া দিয়ে থাকে ইসলামী বক্তরা। আসলে ইসলামে কি ফুটবলকে বৈধতা দিয়েছে ? না কি হারাম তা আজকে জানবো এই প্রতিবেদনে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্মন ইসলামী চিন্তাবিদ তাঁর নিজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক বক্তব্যে ডা. জাকির নায়েক ফুটবল খেলার সাধারণ বিধান এবং পেশাদার ফুটবলের শরিয়তগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
জাকির নায়েক বলেন, সাধারণভাবে এমন কোনো খেলা, যা মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখে এবং কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো কাজে প্ররোচিত করে না, তা ইসলামে অনুমোদন দিয়েছে। সেই হিসেবে ফুটবল খেলাও হারাম নয়।
তাঁর ভাষায়, “ফুটবল যদি আপনাকে ফিট ও সুস্থতা থাকতে সাহায্য করে এবং পবিত্র কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো কাজের কারণ না হয়, তবে ফুটবল খেলা হারাম নয়।”
তবে পেশা হিসেবে ফুটবল খেলার বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম-এর মতামত তুলে ধরেন।
জাকির নায়েক জানান, শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম তাঁর ফতোয়া গ্রন্থে পেশাদার ফুটবলকে হারাম বলার পক্ষে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, খেলোয়াড়দের সতর রক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত হওয়ার আশঙ্কা, জামাতে নামাজ আদায়ে বিঘœ সৃষ্টি, দলাদলি ও বিরোধের পরিবেশ তৈরি হওয়া, খেলায় অর্থ দিয়ে বাজি রাখা, খেলাকে কেন্দ্র করে আঘাতের ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক সফরের সময় বিভিন্ন হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি সালাত ছেড়েদেয়ার সম্ভাবনা থাকলে তঊেন হারাম।
শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিমের মতে, পেশাদার ফুটবলের বাস্তবতা ও পরিবেশ বিবেচনায় এসব বিষয় শরিয়তের দৃষ্টিতে উদ্বেগের কারণ।
তবে এ বিষয়ে আংশিক ভিন্নমত পোষণ করেন ডা. জাকির নায়েক। তিনি বলেন, শায়খের উল্লেখিত অনেক উদ্বেগ বাস্তবসম্মত হলেও সব ধরণের পেশাদার ফুটবলকে এককভাবে হারাম বলা সঠিক নয়।
তাঁর মতে, বিশ্বকাপ বা ইউরোপীয় শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতার মতো উচ্চস্বরের পেশাদার ফুটবলের ক্ষেত্রে এসব আপত্তির অনেকগুলো প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু সব পর্যায়ের ফুটবলকে একই মানদন্ডে বিচার করা উচিত নয়।
জাকির নায়েকের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি ইসলামের বিধান মেনে চলতে পারেন, নামাজ ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালন অবহেলা না করেন এবং হারাম কর্মকান্ড থেকে নিজেকে দূরে রাখেন, তাহলে ফুটবল খেলা বা এটিকে পেশা হিসেবে গ্রহণের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে।





