গাজীপুর সংবাদদাতা: দলীয় প্রভাব খাটিয়ে গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকার শতবর্ষী প্রাচীন ‘বায়তুল নূরে আকসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে, অনৈতিক ও জোরপূর্বক নতুন কমিটি গঠনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

গেল শুক্রবার জুমার নামাজের পর গাছা থানা যুবদলের নেতা সোলাইমান সরকারকে সভাপতি এবং গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম মোমিনুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে এই একতরফা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এতে স্থানীয় সাধারণ মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদের দাতা পরিবার, বর্তমান মোতাওয়াল্লি এবং সাধারণ মুসল্লিদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে বহিরাগত ক্যাডার বাহিনীর সহায়তায় পবিত্র মসজিদে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এই পকেট কমিটি করা হয়েছে।
কমিটি ঘোষণার সময় বহিরাগতরা মসজিদের ইমাম সাহেব ও সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে অত্যন্ত মারমুখী ও অশালীন আচরণ করেন। এর আগেও গত দুই জুমায় পৃথকভাবে বহিরাগত লোক এনে জোরপূর্বক কমিটি ঘোষণার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে বড়বাড়ি এলাকায় মসজিদ প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি হাজী আবুল হাশেম সরকারের ছেলে ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর আওয়াল সরকার। এ সময় মসজিদের ওয়াক্ফ সম্পত্তির মোতাওয়াল্লি ফজলুল হক জানান, নতুন ঘোষিত কমিটির ব্যক্তিরা স্থানীয় সমাজের কেউ নন।
এছাড়া বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত একটি পক্ষ মসজিদের নামে বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো সঠিক হিসাব দেয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় মুসল্লিরা অনতিবিলম্বে এই অবৈধ ও বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
একইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার থেকে পবিত্র মসজিদের ভাবমূর্তি রক্ষায় গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।





