কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ বাগিয়ে নিতে উপজেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ক্ষমতা অপব্যবহার, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার এমন চেষ্টায় মারাত্মক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পরিষদের অন্য সদস্য ও সাধারণ মানুষের মাঝে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গণঅভ্যুত্থানের পর ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান একাধিক মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে যান। নাগরিক সেবা সচল রাখতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় উপজেলা বিএডিসি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে ইউনিয়নের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তিনি নিয়মিত পরিষদে উপস্থিতি থেকে প্রশাসনিক কাজ সামাল দিলেও, সফিকুল ইসলাম দলীয় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অন্যায়ভাবে এই পদ দখলের পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে প্রশাসককে সরিয়ে ক্ষমতার চেয়ারে বসতে চান ওই মেম্বার। এছাড়া তার নিজ ওয়ার্ডে উন্নয়নমূলক কাজ বাগিয়ে নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি এবং অবৈধ করাতকল পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য ইউপি সদস্যরা জানান, নিয়মিত পরিষদে অনুপস্থিত থেকে সফিকুল ইসলাম জনগণকে সেবা বঞ্চিত করেন।
ইউনিয়ন বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও ইউপি সদস্যরা একাত্বতা প্রকাশ করে জানান, বর্তমান প্রশাসক অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন। তার ও পরিষদের বিরুদ্ধে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যায়ভাবে পদ দখলের এই অপচেষ্টা স্থানীয়রা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ১৫ লাখ টাকা লেনদেন ও অপপ্রচারের যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য সফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে প্রশাসক রফিকুল ইসলাম জানান, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যাচার চালাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, অপপ্রচারের বিষয়টি মুখে শুনলেও এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




