সর্বশেষ
গাজীপুরে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও হয়রানির অভিযোগ (পর্ব-১)
বিএনপি নেতার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ‘কোনাবাড়ী বাসিন্দা’ গ্রুপের অ্যাডমিন গ্রেপ্তার
১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যান পদের লোভ: কালিয়াকৈরে বিতর্কিত মেম্বার সফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ জনতা
গুরুদাসপুরের শ্যামপুরে ২ শিশু পানিতে ডুবে মারা যাওয়া দাফন ও জানাজাকে কেন্দ্র করে ‘মিথ্যা’ মামলার অভিযোগ
নবনির্বাচিত ২৩-তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ডুয়েট উপাচার্যের অভিন্দন
নতুন রাষ্ট্রপতিকে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির অভিনন্দন
দুর্নীতিবাজদের আতঙ্কের নাম গাজীপুরের ডিসি নূরুল করিম ভূঁইয়া
গাছায় দুর্ধর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী গ্রেফতার: উদ্ধার ২টি সামুরাই
“সাংবাদিকের হাতে কলম, আগ্নেয়াস্ত্র নয়” এক মিথ্যা অপবাদের গল্প ও সত্যের জয়
গাজীপুর জেলা কারাগারে বড় ‘সিন্ডিকেট’: ১ পিস পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা
লেখাপড়ার বালাই নেই, মুখে তোতলামি গলায় টাই ঝুলিয়ে মেম্বার প্রার্থী, সৌদি প্রবাসী আবু সাইদ!
গাজীপুর জেলা যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত, সভাপতি সেলিম ও সম্পাদক সজিব
বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নির্ভর করে গণিতে দক্ষতার ওপর: ডুয়েট উপাচার্য
দলীয় প্রভাব খাটিয়ে গাজীপুরের শতবর্ষী মসজিদে নতুন কমিটি, মুসল্লিদের ক্ষোভ
কাশিমপুরে প্রাচীর টপকে পালানো নারী বন্দি অবশেষে গ্রেপ্তার, অবহেলার দায়ে বরখাস্ত ৭

গুরুদাসপুরের শ্যামপুরে ২ শিশু পানিতে ডুবে মারা যাওয়া দাফন ও জানাজাকে কেন্দ্র করে ‘মিথ্যা’ মামলার অভিযোগ

সংবাদদাতা: এম এ মমিন রানা,

পানিতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর দাফন-কাফন ও জানাজাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে গুরুদাসপুর থানা পুলিশের অহেতুক হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দায়েরের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর ওপর অন্যায়ভাবে দায় চাপিয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করে পুলিশ।

মামলায় ১-নম্বর আসামি করা হয়েছে মোঃ টগর আলীকে (৩০)। এছাড়া হয়রানিমূলক এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, মোঃ জহুরুল ইসলাম, মোঃ রুবেল হোসেন, মোঃ শামীম হোসেন, মোঃ লিটন আলী, মোঃ আরশেদ আলী, মোঃ সুমন হোসেন, মোঃ আসাদুল ইসলাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ তারেক রহমান, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ সজীব আহমেদ, মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ জাহিদ হাসান, মোঃ বাবুল আক্তার, মোঃ ইমরান হোসেন, মোঃ শাহিন আলম, মোঃ আকরাম হোসেন, মোঃ মনিরুজ্জামান এবং মোঃ সোহেল রানা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত (২৫ আগস্ট) মঙ্গলবার বিকেলে গুরুদাসপুর উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের দুই শিশু নন্দকুজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার দিন গুরুদাসপুর থানা থেকে এসআই মোঃ আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিব ঘটনাস্থলে আসেন। প্রথমে তাঁরা একবার তদন্ত শেষ করে চলে যান। পরবর্তীতে এসআই আবুল বাশার তদন্তের নামে আবারও জানাজার মাঠে এসে উপস্থিত হন।

জানাজার মাঠে হাজারো জনতার উপস্থিতিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস যখন শোকে ভারী হয়ে উঠেছিল, ঠিক ওই সময় দাফনের জন্য প্রস্তুত করা নিহত দুই শিশুর কাফনের কাপড় খুলে আবারও তদন্তের নামে হয়রানি শুরু করে পুলিশের ওই অফিসার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এসআই আবুল বাশার মৃত শিশু দুটিকে কাফনের কাপড় সরিয়ে উলঙ্গ করে নানা প্রশ্ন করতে শুরু করলে উপস্থিত শত শত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে সরিয়ে দিয়ে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ তাতে বাধা দেয় এবং শিশু দুটিকে ময়নাতদন্তে পাঠানোর হুমকি দেয়।

এতে উপস্থিত জনতা পুলিশের ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই পুলিশ সদস্য স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, নিজেদের ভুল সিদ্ধান্ত ও অহেতুক হয়রানি লুকাতে পুলিশ ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’ আখ্যা দিয়ে স্থানীয়দের নামে এই ভিত্তিহীন মামলাটি সাজিয়েছে।

নিহত শিশুদের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমাদের শিশুরা খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গিয়েছে, এ বিষয়ে কারো প্রতি আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। আমরা থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও দিইনি। এরপরেও জানাজার সময় পুলিশ কাফনের কাপড় খুলে কেন বারবার এমন নাটক করল, আমরা তা বুঝতে পারছি না।”

পরবর্তীতে চন্দ্রপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও, নিরীহ এলাকাবাসীর ওপর শুরু হয় হয়রানি। গুরুদাসপুর থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ এমদাদুল হক পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় এই মামলাটি রুজু করেন।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল হান্নান জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আড়াইশজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, শোকার্ত পরিবেশ বিঘ্নিত করা ও নিরীহ এলাকাবাসীর নামে এমন মিথ্যা মামলা দায়েরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ। অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী, মামলা প্রত্যাহার না করা হলে বড় ধরণের আন্দোলণে নামার সম্ভবনা রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর

এই পাতার আরও খবর

সর্বশেষ