স্টাফ রিপোর্টার: রাজনীতির ‘র’-ও বোঝেন না, নেই ন্যূনতম পড়াশোনা। প্রবাসে কাটান সাধারণ শ্রমিকের জীবন, ঠিকমতো কথা বলতে গেলেও তোতলামি থামাতে দীর্ঘ সময় লাগে। অথচ সেই মানুষটিই রীতিমত গলায় টাই ঝুলিয়ে ও পোষ্টার সাটিয়ে মেম্বার পদপ্রার্থী হয়ে নির্বাচনী ময়দানে! এমন কান্ড টাঙ্গাইলের মাহমুদনগর স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে কেবলই সমালোচনা আর ধিক্কারের গুঞ্জ, বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই প্রার্থীর নাম মো. আবু সাইদ মন্ডল।

তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১২ নম্বর মাহ মুদ নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দনলুকিয়া গ্রামের মৃত কালু মন্ডলের প্রথম স্ত্রীর সন্তান। পেশায় তিনি একজন সৌদি প্রবাসী, কর্মরত রয়েছেন একটি কসাইখানার সাধারণ শ্রমিক হিসেবে সেখানে তিনি মাংস কাটাকাটি করেন।
যদিও পোশাকে টাই পরা নিয়ে কোনো আইনি বাধা কিং বা ফৌজদারি বিধিনিষেধ নেই এটি মূলত প্রাতিষ্ঠানিক পোশাক, পেশাগত শালীনতা এবং করপোরেট সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু প্রবাসে কসাইখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করা এবং কোনো প্রাথমিক শিক্ষা না থাকা সত্তেত্বও টাই পরা ছবি দিয়ে মেম্বার প্রার্থী হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক হাস্যরস ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় রাস্তা-ঘাট ও চা-দোকানগুলোতে এখন এটিই মুখ্য আলোচনা। ১২ নম্বর মাহমুদনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দনলুকিয়া, সারুটিয়া, টেংরিপাড়া, দাশের লুকিয়া, ধলচর, তেছপুর ও চকবেদেনি এলাকার বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আবু সাইদ তো ঠিকমতো বাংলা ভাষাই উচ্চারণ করতে পারেন না, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডিও পার হননি। তিনি কীভাবে একটি ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করবেন?”
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা ও শালীনতা থাকা উচিত। অশিক্ষিত ও অযোগ্য কাউকে তোতলামি বা টাইয়ের চাকচিক্য দেখে মেম্বার নির্বাচিত করলে এলাকার ভাগ্যে ‘হাতে হারিকেন’ ছাড়া আর কিছুই মিলবে না। তাই এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত তাঁরা অশিক্ষতি টাই পরা চাকচিক্য দেখে ভোট দেবেন না।
ওই এলাকার সচেতন মহল বলছেন, আবু সাইদ মন্ডল কিছু মূর্খ এবং টাউট প্রকৃতির লোকের উস্কানিতে পড়ে হয়তো বা গলায় টাই দিয়ে মেম্বার প্রার্থীর স্বপ্ন দেখছে বা পোস্টার নির্বাচনী ময়দানে দিয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো, সে যদিও ভোটে অংশ গ্রহণ করে তাকে তো কেউ ভোট দিবে না। জামানত হারিয়ে অপমানিত হবেন। যার মধ্যে নূন্যতম রাজনীতির কোনো জ্ঞান নেই, সে বাংলাদেশের বর্তমান রাজীতির প্রেক্ষাপট তার জানা নেই। ভোটে অংশ গ্রহণ করলেও কি আর ভোট পাওয়া যাবে ? এতোই সহজ ? একজন ওয়ার্ডরে জনপ্রতিনিধিত্ব করতে হলে তো শিক্ষিত হতে হয়, রাজনীতি বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হয়। এটার সৌদিআরব না। বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র বড়ই কঠিন জিনিস। এখন আর সমাজে মূর্খ নেতৃত্ব মানুষ মেনে নিবে না, আবু সাইদ মন্ডল একজন অশিক্ষিত কেউ তাকে ভোট দিবে না। তাকে কেউ হয়তো উস্কানি দিয়েছে ধ্বংস করার জন্য তার পিছনে উঠেপড়ে লেগেছে।





