গাজীপুর জেলা সংবাদদাতা:
গাজীপুরের কোনাবাড়ি জরুন এলাকায় অবস্থিত ইসলাম গার্মেন্টস লিঃ ইউনিট-২ এর নারী শ্রমিক রুবিনা বেগম (৪৮) অসুস্থ হয়ে ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মারা যান।
এ ঘটনার অজুহাতে ওই কারখানার শ্রমিকরা ধর্মঘট ও অস্থিতিশীল সৃষ্টি করে রাখেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় গেল বুধবার ১লা জুলাই অনির্দিষ্ঠকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করেন।
গেল বৃহস্পতিবার (২রা জুলাই) বিকেলে রুবিনা বেগমরে বড় মেয়ের জামাতা মো. জসিমউদ্দিনের কাছে তাঁর শাশুড়ির মৃত্যুর কারণ জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। জসিম বলেন, রুবিনা আমার শাশুড়ি এবং নিজের খালা হয়। তাঁর দুই মেয়ে। আমি খালার বড় মেয়েকে বিয়ে করেছি। সেই হিসেবে তিনি আমার খালা এবং শাশুড়ি হয়।
তিনি বলেন, আমি কোনাাবড়ির স্ট্যান্ডার গার্মেন্টেসে কাজ করি। খালা কোনাবাড়ির জরুন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একাই থাকেন তাঁর স্বামী নেই। তিনি ইসলাম গার্মেন্টস ইউনিট-২ এ সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
গেল শনিবার (২৭ জুন) ডিউটি চলাকালিন সময় হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে কোম্পানির নিজস্ব মেডিকেলে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এ সময় খালার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কোনাবাড়ি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কোনাবাড়ি ক্লিনিক ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। এরপর ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি।
সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার শাশুড়ি রুবিনাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বড় ধরণের হার্ট অ্যাটাক এবং ফুসফুসে জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসক রিংপড়াতে পরামর্শ দেন। তবে ফুসফুসে (ড্রেমেজ) কিন্তু রিং পড়াতে হলে প্রথমে ফুসফুসের চিকিৎসা করতে হবে।
রুবিনার মেয়ের জামাতা জানান, চিকিৎসক এসব রোগের কথা জানিয়ে তাঁকে কিছু ওষুধ কিনে আনতে বলেন। এসময় আমি ওষুধ কিনে নিয়ে কিছুক্ষণ পর আসামাত্রই আনুমানিক সময় রাত ৮টার দিকে চিকিৎসকরা শাশুড়িকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
জসিম বলেন, আমার শাশুড়ি আগে থেকেই রোগে ভুগছিলেন, মাঝে মাঝে গ্যাসের ব্যাথা উঠলে গ্যাসের ট্যাবলেট খেতেন কখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ওষুধ খাননি। এ মৃত্যুতে আমি কাউকে দোষারোপ করি না, শাশুড়ির হায়াত ছিল না, তাই মারা গেছেন। তাছাড়া তিনি বড় ধরণের হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন। পাশাপাশি তাঁর ফুসফুসে ড্রেমেজ হয়েছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতি কোনো আমাদের কোন অভিযোগ নেই। যেহেতু অনেক পুরোনো সমস্যা তাই তাঁর হায়াত নাই সে মারা গেছে, আমি কাউকে দোষারোপ করি না।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন (পিপিএম) বলেন, শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ করে অভিযোগ করার কারণে আজকেও কারখানাটি বন্ধ রয়েছে।
প্রসঙ্গ: গাজীপুরের কোনাবাড়ি জরুন এলাকায় অবস্থিত ইসলাম গার্মেন্টস লিঃ (ইউনিট-২) এ গেল ২৭ জুন শনিবার রুবিনা বেগম (৪৮) নামে এক নারী শ্রমিক ওই কারখানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে কারখানার ভেতরে কোম্পানির নিজস্ব মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কোনাবাড়ি ক্লিনিকে পাঠানো হয়।
কোনাবাড়ি ক্লিনিকে তাঁর অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকা হৃদরোগ ইন্সটিটিউট মেডিক্যালে রেফার্ড করেন। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রুবিনা বেগমের মৃত্যু হয়।
পরে ওই নারী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর কারখানার অভ্যান্তরে শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে পরে। এসময় শ্রমিকরা তাঁদের কাজ বন্ধ করে ধর্মঘট শুরু করে দেন। শ্রমিকদের দাবী, কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে রুবিনার মৃত্যু হয়েছে। শ্রমিকরা আরো জানায়, এর সঠিক তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলায় জড়িত কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনতে ধর্মঘট করেন।
নিহত রুবিনা বেগম সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর থানার মেঘাই গ্রামের মৃত সুমার আলী সরকারের মেয়ে। তিনি জরুন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ইসলাম গার্মেন্টসে সুইয়ং মেশিনের অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরে রুবিনা বেগম মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা ধর্মঘটসহ কারখানার অভ্যান্তরে আস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। মূলত এসব অশান্ত পরিবেশের কারণে ইসলাম গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ নোটিশ টাঙিয়ে অনির্দিষ্ঠকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করেন।





