নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর:
গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় এসএ পরিবহন পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস শাখায় দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি, স্টাফদের মারধর এবং নগদ টাকা ও পণ্য লুটের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে কোনাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম শান্ত মির্জা (৪৪) নামের এক বহিষ্কৃত বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার শান্ত মির্জা কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী থানার খরখরিয়া গ্রামের মৃত দারোগা আলীর ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত বাকি পলাতক আসামিরা হলো—আসাদুজ্জামান লিয়ন (৩৫) ও মো. আবুতাহের (৪৫)।
মামলার এজাহার ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে কোনাবাড়ী থানাধীন দেওয়ালিয়াবাড়ী জেলখানা রোডে অবস্থিত এসএ পরিবহনের ওই শাখায় অনধিকার প্রবেশ করে আশরাফুল ইসলাম শান্ত মির্জা ও আসাদুজ্জামান লিয়নের নেতৃত্বাধীন একটি সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্র।

এ সময় অভিযুক্তরা অফিসে ঢুকে স্টাফদের জিম্মি করে মারধর করেন। পরে গোডাউন থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৬ বস্তা সিগারেট (যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা) এবং গ্রাহকদের লেনদেনের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ ৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যান।
যাওয়ার সময় তারা আরও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে ম্যানেজারকে প্রাণে মেরে গুম করার হুমকি দিয়ে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মামলার বাদী ও প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম বলেন, “দুষ্কৃতকারীদের এমন আকস্মিক ও সশস্ত্র তাণ্ডবে আমি এবং আমার সহকর্মীরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পরে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে থানায় এজাহার দায়ের করেছি।”
পুলিশের বক্তব্য:
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোনাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম জানান, “প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি শান্ত মির্জাকে গ্রেপ্তার করে আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়দের বক্তব্য:
স্থানীয়রা বলেন, এই শান্ত মির্জা একজন সুবিধাবাদী ও বড় মাপের টাউট, চোর, চাঁদাবাজ এবং চিটার। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের আমলে বেপরোয়া জীবনযাপন করেছেন, যে কারণে স্থানীয়দের গণধোলাইও খেয়েছেন। তবুও তাঁর স্বভাব পরিবর্তন হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পরই তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে নেতা বনে যান। তবে বিএনপির এক নেতার ছত্রছায়ায় তিনি আবারও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বেড়াতেন। কিছুদিন আগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে:
এই মামলার অপর আসামি আসাদুজ্জামান লিয়ন (৩৫) ও মো. আবুতাহের মিয়া (৪৫) সহ কোনাবাড়ীর বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। শান্ত মির্জাসহ এরা সবাই রংপুর বিভাগের লোক। এর আগে শান্ত মির্জার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।




