গাজীপুর সংবাদদাতা: মহানগরীর কোনাবাড়ি আমবাগে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১১) শ্লীলতাহানি ও নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে মো. খাইরুল ইসলাম (৪৮) নামের এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে আমবাগ এলাকার ‘মাদ্রাসাতুল আবরাব’ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। রোববারেই আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত খাইরুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার কাঠালিয়া গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও মামলা: পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানায়, গেল শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে প্রতিদিনের মতোই মাদ্রাসায় যায় ওই শিক্ষার্থী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষক খাইরুল ইসলাম তাঁকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান।
এরপর ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
তবে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কঠোর তৎপরতায় ঘটনাটি আড়াল করা সম্ভব হয়নি ওই। পরবর্তীতে স্থানীয়রা কোনাবাড়ি থানা পুলিশকে খবর দিলে শনিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে কোনাবাড়ি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আজ (রোববার) তাঁকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই শিক্ষক খাইরুলের বিরুদ্ধে এর আগেও এক কমলমতি শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতনের করার অভিযোগ রয়েছে।
আমবাগ ‘মাদ্রাসাতুল আবরাব’ এর সকল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই মাদ্রাসায় প্রতিনিয়ত অসহায় শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হয়।
জানা গেছে, ওই মাদ্রাসার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা গরীব মানুষের সন্তান। তাই বাবা-মা এবং পরিবারের সবাই পোশাক শ্রমিক। মাদ্রাসায় রেখে তাঁরা সবাই কারখানায় কাজে চলে যান। আর এ সুযোগে ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক খাইরুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরাই শিশুদের প্রতি মাঝে মাঝেই এমন আচরণ করে থাকে। তবে স্থানীয়রা বেলছেন, মাদ্রাসাটি যেন বন্ধ করে দেয়া হয়।





