ঢাকা ডায়েরি প্রতিবেদন:
এমপিও ভুক্ত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে সরাসরি মদ্যপান করে মাতলামি করার অভিযোগে উঠেছে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে মদ্যপান করে চিৎকার-চেঁচামেচি ও মাতলামি করার অভিযোগে এক প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, ঘটনাটি ওইদিন উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের নুকালী বহুপার্র্শিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ঘটেছে।
তিনি বলেন, ভিডিওটি নজরে আসার পর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে শোকজ করেন। তাঁকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রধান শিক্ষক তাঁর অফিস কক্ষে বসে আবোলতাবোল বকতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁকে মদ্যপানের কথা স্বীকার করতেও শোনা গেছে। একপর্যায়ে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আপত্তিকর ভাষায় কথাও বলেন। পরে খবর পেয়ে তাঁর আত্মীয়স্বজনরা এসে তাঁকে বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে নিয়ে যান।
স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের কক্ষে বসে মদ্যপান করেন। তিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।”
এ ঘটনার পর অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, মানসিক অশান্তির কারণে তিনি মদ্যপান করেছিলেন। তখন তার মাথা ঠিক ছিল না। ওই অবস্থায় কী বলেছেন বা কী করেছেন, তা তাঁর মনে নেই। বিদ্যালয়ে ওই অবস্থায় যাওয়াটা তাঁর ভুল হয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন, প্রধান শিক্ষককে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
“শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালিন সময় মদপান করে মাতলামি করার বিধান নেই। তবে কোনো শিক্ষক যদি এমন আচরণ করে থাকে সংবিধান অনুযায়ী প্রথমে তাঁকে শোকজ করা হবে। আর সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিধিমালা ও শৃঙ্খলা নীতিমালা অনুযায়ী এমন আচরণের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
তবে ঘটনাটি সত্যিই ঘটে থাকে এবং তার প্রমাণ (ভিডিও, সাক্ষী ইত্যাদি) থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পরিচালনা কমিটি বা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষ চাকুরি থেকে তিনি স্থায়ী বরখাস্ত হবেন।





